দেশে ১৫০ টাকা মূল্যের প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল এবং প্লাস্টিকের পাদুকার উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, ১৫০ টাকা দামের প্লাস্টিক ও রাবারের পাদুকার উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বসলে তাতে এসব পাদুকার দাম বাড়বে, যার ভুক্তভোগী হবেন গ্রাম থেকে শহরের একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ছাড়া এ ধরনের পাদুকা তৈরির সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্লাস্টিক ও রাবাবের তৈরি ১৫০ টাকা বা তার কম দামের হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর ২০২৪ সালের ২৭ মে থেকে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিয়ে আসছিল সরকার। কিন্তু ৯ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন এক আদেশে সেই সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে কম দামি এসব হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর দাম বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষ এসব পাদুকা ও হাওয়াই চপ্পল পরা কমিয়ে দেবেন। তাতে অনেক কারখানার উৎপাদন কমবে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো বেশি সমস্যায় পড়বে। আর সেটি হলে অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারাবেন। মূল্যবৃদ্ধির কারণে কম দামি হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার বিক্রি কমে গেলে তা পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করা হয়। এ ধরনের চপ্পল ও পাদুকা তৈরিতে কারখানাগুলো মূলত পুরোনো চপ্পল ও পাদুকাকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে। পুনরুৎপাদন বা রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমেই এসব কারখানা চলে। কারখানার সংখ্যা বা হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার বিক্রি কমে গেলে তাতে রিসাইক্লিংও কমে যাবে। তখন গ্রাম থেকে শহরে রাস্তাঘাটে ব্যবহারের অনুপযোগী হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকা পড়ে থাকবে। এসব সামগ্রী পচনশীল নয়। এর ফলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
১৫০ টাকার চপ্পলে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি।
RELATED ARTICLES